June 19, 2024 1:04 am

৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

June 19, 2024 1:04 am

৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

Hc madrasa teachers recruitment: মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ মামলায়১২ হাজার পদপ্রার্থীর আবেদন খারিজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Pocket
WhatsApp

A special division bench of Justice Tapbrata Chakraborty and Justice Raja Basu Chowdhury dismissed the plea of ​​the litigants. A bench of Justice Aniruddha Roy dismissed the plea of ​​the petitioners. An appeal was filed before the Division Bench challenging that order.

রাজ্য

দ্যা হোয়াইট বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীরর বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দিলেন। বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের বেঞ্চ মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানায়।

শুধুমাত্র স্নাতকে অনার্সে ৫০ শতাংশ নম্বর আবেদনপত্রে উল্লেখ করায় পাশ সাবজেক্টের নম্বর উল্লেখ না করায় মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে ১২ হাজার জনের আবেদনপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর স্পেশাল ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল। এদিন সেই আবেদনপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরাদের আবেদনে। শনিবার সেই মামলার শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আবেদনকারীদের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত।

মাদ্রাসা বোর্ডের বক্তব্য ছিল, বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক স্তরে পাস এবং অনার্সে প্রাপ্ত মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ চাওয়া হয়েছে। তাই যারা শুধুমাত্র অনার্সের নম্বর দিয়েছেন, পাশের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ করেননি আবেদনপত্রে, তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবীর পাল্টা বক্তব্য, অনার্স স্নাতকে অনার্সের নম্বরই গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি যে, যারা অনার্স স্নাতক তাদের পাস সাবজেক্টের প্রাপ্ত নম্বরও আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। তাই তাদের আলাদা করে অন্য দিনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য: জানায় বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরে ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর সহ বিএড থাকতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও বলা হয়নি যে পাশ ও অনার্সের মোট প্রাপ্ত নম্বরের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি থাকতে হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি আবেদনগুলো বাতিল করা হয়। পরীক্ষার ৪ দিন আগে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে অনলাইন আবেদন সফল ভাবে হলে এবং টাকা জমা দিলে যদি আবেদনপত্রে কোনও ভুল থাকে তা সংশোধন করার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও সংশোধনের সুযোগই দেওয়া হয়নি। তাছাড়া, অনার্সে ৫০ শতাংশ নম্বর রয়েছে। পাশে ৫০ শতাংশ নেই ঠিকই। স্নাতক অনার্সে ও স্নাতকোত্তরে বিষয়ে স্পেশাল স্পেশালাইজেশন হয়। আর সেই বিষয়ের শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছি। তাহলে সেই বিষয়ে অনার্সে ৫০ শতাংশ থাকলে কেন আবেদন বাতিল করা হবে। বোর্ড বলছে অনার্স ও পাশ মিলিয়ে ৫০ শতাংশ থাকতে হবে। যেহেতু তারা পাশের নম্বর আবেদনপত্রে উল্লেখ করেনি, তাই তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এটা তো হতে পারে না। তাই আবেদনকারীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক।

বিচারপতি: কতজনের আবেদন বাতিল হয়েছে? এতদিন আবেদন করেননি কেন?

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য: ১২ হাজার জনের আবেদন বাতিল হয়েছে। ২৬ তারিখই আমরা আবেদন করেছি সিঙ্গেল বেঞ্চে।

বিচারপতি: ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ব্যবস্থা করা কি সম্ভব? আদালত যদি আপনাদের আবেদন মেনে নেয় তাহলে অন্য কারণে যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তারাও তো সংশোধনের আবেদন করবে?

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য: কেন সম্ভব নয়? এইভাবে তো বঞ্চিত করা যায় না। সংশোধনের সুযোগ দিয়ে অন্য দিনে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হোক। বোর্ডের কাছে তো একাধিক প্রশ্নপত্রের সেট থাকে। তাই তরুণ এই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক। আমরা তো আবেদন করেছি, যাদের অনার্সে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা সত্ত্বেও আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে, শুধুমাত্র তাদের জন্য।

মাদ্রাসা বোর্ডের আইনজীবী: প্রায় ২ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। তারমধ্যে থেকে গোটা রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার পরীক্ষার্থী ৩ মার্চ অর্থাৎ রবিবার সকাল ১০.৩০ পরীক্ষায় বসবে। সব আয়োজন শেষ। কিন্তু আবেদনকারীরা স্নাতকে প্রাপ্ত পাশ সাবজেক্টের কোনও নম্বর আপলোড করেনি। সেই কারণেই বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার আবেদনকারীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হলে ১২ হাজার জনকে বসতে দিতে আমাদের অসুবিধা কোথায়! ২০২৩ সালের ২৬ জুন বোর্ডের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যারা স্নাতকের সমস্ত নম্বর আপলোড করেনি, তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। স্নাতক ডিগ্ৰি পাশ ও অনার্সের নম্বর মিলিয়েই হয়। বোর্ড তাই স্নাতকে প্রাপ্ত মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ চেয়েছে। তার মানে পাশ ও অনার্সের প্রাপ্ত মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি চাওয়া হয়েছে। তাই শুধুমাত্র অনার্সে প্রাপ্ত ৫০ শতাংশ নম্বরের ভিত্তিতে আবেদনগুলো বাতিল করা হয়েছে।

বিচারপতি: স্নাতকে ‘ক্লাস’ ঠিক হয় অনার্সের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। তাই যারা অনার্স গ্ৰ্যাজুয়েট, তাদের ক্ষেত্রে পাশ সাবজেক্টে প্রাপ্ত নম্বরের আর কোনও গ্ৰহণযোগ্যতাই থাকে না। তাই যারা অনার্সে ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে, তাদের তো সেটাই ধরতে হবে।

মামলাকারী জসিমউদ্দিন মন্ডল ও সন্তু মাইতির আইনজীবী: আমরা পার্ট ‘থ্রি’ তে ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। পার্ট ‘থ্রি’র নম্বর মানে পাশ ও অনার্সের প্রাপ্ত নম্বর। সেই রেজাল্ট সহ সমস্ত নথি আপলোড করেছি। তারপরও আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য: অনার্সে ৫০ শতাংশ পাওয়া সত্ত্বেও ১২ হাজার জনকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। তাই তাদের অন্য দিনে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক। এমসিকিউ প্রশ্ন। তাই আলাদা করে পরীক্ষার অয়োজন করতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া, মাদ্রাসার বেশিরভাগ আবেদনকারী প্রত্যন্ত গ্ৰামের। তাই তাদের পক্ষে সবসময় পোর্টালে কবে কখন কী বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে তা নজর রাখা সম্ভব হয়না। বোর্ডের তাহলে এই বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দিল।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় নানান রকম ত্রুটি দেখিয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক পদপ্রার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ কেড়ে নিয়েছে মাদ্রাসা নিয়োগ বোর্ড। বোর্ডের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেছেন কয়েকশো প্রার্থী। রাত পোহালেই রবিবার ওই পরীক্ষা দেওয়ার কথা ১ লক্ষ ৭৪ হাজার প্রার্থীর। তাদের মধ্যে ১২ হাজারকে বেআইনি ভাবে বাদ দিয়ে দেওয়ায় আবেদনে শুনানির জন্য আজ বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ বসে কলকাতা হাইকোর্টে। দুপুর দু’টোয় বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। রবিবার পরীক্ষা হয়ে গেলে এই মামলার আর কোনও যৌক্তিকতা থাকবে না বলেই জরুরি ভিত্তিতে এই শুনানির ব্যবস্থা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার ১২ হাজার আবেদন বাতিল করে মাদ্রাসা বোর্ড। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদন জানান বঞ্চিত আবেদনকারীরা। কিন্তু সিঙ্গেল বেঞ্চেও তাদের আবেদন খারিজ করে দিলে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় তারা। শনিবার বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Pocket
WhatsApp

Related News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top