June 19, 2024 1:18 pm

৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

June 19, 2024 1:18 pm

৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

High court kolkata:শুভেন্দু অধিকারীকে শর্তসাপেক্ষ সন্দেশখালি যাওয়ার অনুমতি দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র। তবে কোন উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারবেন না বিরোধী দলনেতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Pocket
WhatsApp

Justice Kaushik Chandra allowed Shuvendu Adhikari to go on conditional discharge. However, the opposition leader cannot make any provocative comments

রাজ্য

দ্যা হোয়াইট বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক:

শুভেন্দু অধিকারীকে শর্তসাপেক্ষ সন্দেশখালি যাওয়ার অনুমতি দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র। তবে কোন উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারবেন না বিরোধী দলনেতা

সন্দেশখলিতে ১৪৪ধারায় সাতদিনের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়ে বিরোধী দলনেতাকে শর্ত সাপেক্ষে সন্দেশখলি যাওয়ার ছাড়পত্র দিল হাইকোর্টেরবিচারপতি কৌশিক চন্দের।
আক্রান্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন শুভেন্দু। নির্দেশ বিচারপতি কৌশিক চন্দের।রাজ্য সরকার উপযুক্ত নিরাপত্তা দেবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে পারবে পুলিশ।

বিরোধী দলনেতা কোন উস্কানিমূলক মন্ত্যব্য করতে পারবেন না। আইন শৃঙ্খলা মেনে চলবেন।সন্দেশখলি ২ নম্বর ব্লকের সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েতে যেতে পারবেন শুভেন্দু।আগামীকাল কোন কোন রুটে আক্রান্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তা তিন ঘন্টার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী কে আদালতকে জানাতে হবে। সন্দেশখালি তে এখনো পর্যন্ত কত ক্রিমিনাল কেস হয়েছে তা ৭ দিনের মধ্যে আদালত কে রিপোর্ট দিয়ে জানাবে বসিরহাটের পুলিশ সুপার।

শুভেন্দু অধিকারীর সন্দেশখালি সংক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসে সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষের আইনজীবী
রাজদীপ মজুমদার জানান গত ১২ই ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলনেতা সন্দেশখলি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মাঝপথে ( সন্দেশখালি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার আগে) আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল সন্দেশখলির মধ্যে যে এলাকায় অশান্তি হতে পারে এধরনের নির্দিষ্ট এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি বিচার করে পুলিশে ১৪৪ জারি করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রযোজনীয় নির্দেশ নিতে হবে পুলিশকে। অভিযোগ পুলিশ সেই নির্দেশ অমান্য করে সন্দেশখালির বাইরের এলাকাতেও ১৪৪ ধারা জারি করে বিরোধী দলনেতাকে আটকে দেয়। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। হাইকোর্টের নির্দেশকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বিরোধী দলনেতাকে এভাবে আটকানো হয়েছে বলে এদিন অভিযোগ করেন শুভেন্দুর আইনজীবী।

১৩ই ফেব্রু়ারিতে হাইকোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে সেদিনই পুলিশ নির্দেশ অমান্য করে বসিরহাট এসপি অফিসের সামনে সন্দেশখালি সংক্রান্ত ঘটনায় বিক্ষোভ বলে বিজেপির বিক্ষোভ্কে উল্লেখ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ৮টি জায়গায় নিয়ে
সন্দেশখালি থানা। হাইকোর্টের নির্দেশের পর একটিমাত্র দ্বীপ ছেড়ে দিয়ে বাকি সাতটি দ্বীপে ১৪৪ ধারা বজায় রক্ষে পুলিশ। সন্দেশখলি জুড়ে অরাজকতা চলছে তা এখন সবাই জানে। তা সত্বেও বিরোধী দলনেতাকে আটকানো হচ্ছে। হাইকোর্ট এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করে শত প্রণোদিত নির্দেশ দিলে সেখানকার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারেন বিরোধী দলনেতা।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, সন্দেশখলির পরিস্থিতি বিচার করে (বিচারপতির কাছে ১৩ই ফেব্রুয়ারির কেন্দ্রীয় আইবি রিপোর্ট তুলে ধরে ) বিরোধী দলনেতাকে এলাকায় ঢুকতে বাধ দেওয়া হয়। প্রথমত, তিনি কোনো সাংবিধানিক ব্যক্তি নন এবং তাঁকে সেখানে ঢুকতে দিলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হবে বলে মনে করেছে পুলিশ। অ্যাডভোকেট জেনারেলের কথা প্রসঙ্গে বিচারপতি বালেনর হাইকোর্টের নির্দেশের পর নতুন করে ১৪৪ ধারা প্রয়োগের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেটা আগের নির্দেশের কপি পেস্ট কিনা সেটাই বিবেচ্য।

উত্তরের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন মোটেই কপি পেস্ট নয়। কেন্দ্রীয় আইবি রিপোর্টকে ভিত্তি করেই এই নির্দেশ জারি করা হয় ।যেকোনো ব্যক্তি ওই নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হয়েও এধরনের পরিস্থিতিতে অবধ বিচরণের অধিকার কজে লাগিয়ে তাঁকে কি ওই নির্দিষ্ট এলাকায় ঢুকতে দিতে পুলিশ বাধ্য? এই প্রশ্নটাও বিবেচনা করতে হবে। ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট বিবেচনা করা হোক যা হাইকোর্টের নির্দেশের পরে দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি রাজ্যের কাছে জানতে চেয়েছিলেন DIB রিপোর্ট কি রয়েছে? আমি DIB রিপোর্ট দেখতে চাই। ( AG অবশ্য DIB রিপোর্ট দেখাতে পরেননি)। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা প্রশাসনের বিষয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনকেই দেওয়া হোক।

ফের বিচারপতি এজির জানতে চান, চার পঞ্চায়েত এলাকায় ১৪৪ এর আওতার বাইরে সেখানে বিরোধী দলনেতা যেতেই পারেন। তিনি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে যেতে পারেন। প্রয়োজনে BSF নিরাপত্তা ডেবে।অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান কেন্দ্রীয় আইবি র রিপোর্ট টা দেখে সিদ্ধান্ত নিন।বিচারপতি এজির উদ্দেশ্যে DIB রিপোর্ট আনার ব্যবস্থা করুণ।

একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শান্ত হয়নি উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালি। সন্দেশখালীর মাটি দখলে নেমে পড়েছে এর রাজ্যের একের পর এক রাজনৈতিক দলগুলি। সামনেই লোকসভা নির্বাচন কার দখলে থাকবে সন্দেশখালি! তা নিয়েই চাপানউতর বঙ্গ রাজনীতিতে। ১৪৪ দ্বারা টপকে সন্দেশখালীর ভেতরে যেতে চায় সিপিআইএম বিজেপি এবং সর্বোপরি কংগ্রেস।
চলতি সপ্তাহ শুরুতেই সিপিআইএমের যুব সংগঠন এর রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় গিয়েছিলেন সন্দেশখালিতে কিন্তু মাঝপথেই তাকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস গিয়েছিলেন সন্দেশখালি নিপীড়িত মানুষের সাথে কথা বলতে। তাকেও আটকে যেতে হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের রোষের মুখে। ১৩ই ফেব্রুয়ারিতে সন্দেশখালি যাওয়ার মুখেই আটকে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কে। সরস্বতী পূজার দিন সন্দেশখালি পৌঁছে যেতে চেয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তিনিও পৌঁছে যেতে চেয়েছিলেন সন্দেশখালীর মানুষের কাছে তাদের বক্তব্য তাদের অভাব তাদের অভিযোগ শোনার জন্য। কিন্তু বাধার মুখে ফিরে কলকাতাতেই ফিরে আসতে হয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দলনে তাকে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Pocket
WhatsApp

Related News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top